বাংলাদেশে ভুয়া খবর ও গুজব ছড়ানোর বাস্তবতা : ডিজিটাল সাংবাদিকতা
একটি খবর আজ আর দিনের অপেক্ষা করে না।
কয়েক সেকেন্ডেই তা ছড়িয়ে পড়ে হাজারো মানুষের কাছে। ভিডিও, ছবি ও লাইভ আপডেটের যুগে প্রযুক্তি সংবাদকে করেছে দ্রুত ও সহজলভ্য। তবে এই গতির সঙ্গে সঙ্গে সত্য যাচাই ও বিশ্বাস রক্ষার চ্যালেঞ্জও বেড়েছে অতিমাত্রায়।
বর্তমানে সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিশ্বের সকল বড় বড় সংবাদমাধ্যম এআই ব্যবহার করছে। সাক্ষাৎকার ট্রান্সক্রিপশন, ভাষা অনুবাদ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং খেলাধুলা বা বাজারসংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত খবর তৈরিতে। এতে কাজের গতি বাড়লেও ঝুঁকিও রয়েছে। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া খবর, ভুয়া ছবি ও ডিপফেক ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা পাঠকের বিশ্বাসকে দুর্বল করে।
এই সমস্যার মোকাবিলায় প্রযুক্তিকেই আবার ব্যবহার করা হচ্ছে। NewsGuard-এর মতো ব্রাউজার টুল সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা রেটিং দেয়, আর Google Fact Check Explorer ফ্যাক্ট-চেক করা তথ্য খুঁজতে সাহায্য করে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোও ভুয়া তথ্য শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবুও অনেক ক্ষেত্রে গুজব ছড়িয়ে যায় কোনরকম যাচাইয়ের আগেই।

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, সংবাদে মানুষের আস্থা আগের তুলনায় অনেক কমে গিয়েছে। যার কারনে পাঠকরা এখন একাধিক উৎস মিলিয়ে খবর পড়ছেন এবং পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে বেশি আস্থা রাখছেন। ভবিষ্যতে ব্লকচেইনভিত্তিক যাচাই প্রযুক্তি সংবাদ সত্যতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে, যদিও এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশেও একই চিত্র দেখা যায়। নির্বাচন বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় অনলাইন সংবাদ যেমন দ্রুত ছড়ায়, তেমনি গুজবও ছড়ায়। Rumor Scanner ও Fact Watch-এর মতো প্রতিষ্ঠান বাংলায় ভুয়া তথ্য যাচাই করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে। একই সঙ্গে অনেক বাংলাদেশি সাংবাদিক গবেষণা, অনুবাদ ও নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছাতে এআই ব্যবহার করছেন।
প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যমকে শক্তিশালী করেছে। তবে সত্য ও বিশ্বাস ধরে রাখতে হলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং সচেতন পাঠক , দুজনই অপরিহার্য। RUAP TV বিশ্বাস করে, যাচাই করা তথ্যই টেকসই এবং গণমাধ্যমের মূল ভিত্তি।

এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও খবর, বিশ্লেষণ ও আপডেট পেতে
আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ বাংলা সংবাদ পড়ুন।
সব নতুন খবর জানতে এখনই নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। Home