Home Articlesপুঁজি ছাড়াই শুরু করুন ব্যবসা: বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের ‘ধামাকা’ অফার!

পুঁজি ছাড়াই শুরু করুন ব্যবসা: বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের ‘ধামাকা’ অফার!

by The Press Room
0 comments

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি সুযোগ ও সহায়তা, পুঁজি ছাড়াই

একটি ছোট ব্যবসা দিয়ে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কেউ চাকরির পাশাপাশি কিছু করতে চান, কেউ আবার পুরোপুরি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হলো পুঁজি, সঠিক দিকনির্দেশনা আর সহায়তার অভাবে অনেক সময় সেই স্বপ্ন থেমে যায়। আশার কথা হলো, বাংলাদেশে এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি সহায়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংগঠিত ও সহজলভ্য।

দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই খাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। সরকার এই খাতকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে তরুণ, নারী উদ্যোক্তা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা এখন আত্মনির্ভর হওয়ার বড় সুযোগ হয়ে উঠেছে।

এই লক্ষ্য সামনে রেখে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও পরামর্শ সেবা দিচ্ছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও বিসিক নিয়মিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা, উৎপাদন, হিসাবরক্ষণ এবং আধুনিক মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বর্তমানে ডিজিটাল ব্যবসা ও অনলাইন মার্কেটিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে উদ্যোক্তারা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারেন।

অর্থায়নের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কম সুদে ঋণ দিচ্ছে। যাদের জামানত নেই, তাদের জন্য চালু আছে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম, যেখানে সরকার ঋণের একটি অংশের নিশ্চয়তা দেয়। এতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ পাওয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।

ব্যবসা সম্প্রসারণে এসএমই ফাউন্ডেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা সরাসরি ঋণ না দিলেও বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি দেশজুড়ে মেলা, প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্কিং আয়োজন করে উদ্যোক্তাদের বাজার সংযোগ বাড়াতে সহায়তা করে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এখন অনেক সরকারি সেবা অনলাইনেই পাওয়া যাচ্ছে। ট্রেড লাইসেন্স স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে হলেও টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন এখন সহজেই অনলাইনে করা যায়। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমেছে।

রংপুরের মিঠাপুকুরের রিনা বেগমের গল্পটি এই ব্যবস্থার বাস্তব উদাহরণ। ঘরে বসে আচার ও মসলা তৈরি করে শুরু করা তার ব্যবসা আজ একটি ছোট উদ্যোগে রূপ নিয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পাওয়া ঋণই তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আরও দুজন নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে জানলে এবং নিয়ম মেনে কাজে লাগাতে পারলে ছোট ব্যবসাও বড় সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারে। প্রয়োজন শুধু সঠিক তথ্য, ধৈর্য আর উদ্যোগ। আজ যে ব্যবসাটি ছোট মনে হচ্ছে, আগামী দিনে সেটিই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প।

এই প্রতিবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও খবর, বিশ্লেষণ ও আপডেট পেতে
আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ বাংলা সংবাদ পড়ুন।
সব নতুন খবর জানতে এখনই নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন। Home

You may also like

Leave a Comment