উত্তরা এলাকার মেট্রোরেল যাত্রীদের জন্য অবশেষে স্বস্তির খবর নিয়ে এলো ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের দাবির মুখে প্রতিষ্ঠানটি অবশেষে উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্টার এবং উত্তরা সাউথ স্টেশনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোটরসাইকেল ও সাইকেল পার্কিং পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষ্যে বাণিজ্যিক লাইসেন্স প্রদানের জন্য দরপত্র বা আবেদন আহ্বান করা হয়েছে, যার অর্থ হলো, স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কিং সুবিধা চালুর প্রক্রিয়াটি এখন অনেকটাই নিশ্চিত।
বর্তমানে অসংখ্য যাত্রী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা সাইকেল চালিয়ে মেট্রো স্টেশনে আসেন। কিন্তু নির্ধারিত কোনো পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে বা ফুটপাতে গাড়ি রেখে মেট্রোতে ওঠেন। এতে একদিকে যেমন চুরির ভয় থাকে, অন্যদিকে যানজট ও পথচারীদের ভোগান্তিও বাড়ে। নতুন এই পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা চালু হলে যাত্রীরা অনেকটাই নিশ্চিন্ত হতে পারবেন।
বিশেষ করে দিয়াবাড়ি, উত্তরাসহ আশপাশের বাসিন্দারা যারা প্রতিদিন মেট্রো ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি বড় একটি পাওয়া। বাসা থেকে সাইকেল বা বাইকে স্টেশনে এসে নিরাপদে গাড়ি রেখে মেট্রোতে চড়তে পারলে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও আধুনিক হবে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমে শহরে যানজট ও পরিবেশ দূষণ কমাতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উন্নত দেশের মতন বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের জন্য ইজারা দেওয়া হচ্ছে। যেন মেট্রো থেকে নেমে নিজ নিজ গন্তব্যে সহজেই যাওয়া যায়। তবে প্রকল্পটির সফলতা নির্ভর করছে এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর। পার্কিং ফি সাধারণ যাত্রীদের নাগালের মধ্যে রাখা, পর্যাপ্ত সিসিটিভি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পার্কিং জোনগুলো যেন কোনোভাবেই যাত্রী চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করে, সেটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ধারণক্ষমতা যদি চাহিদার তুলনায় কম হয়, তবে অব্যবস্থাপনা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা থেকেই যায়।
সব মিলিয়ে, মেট্রোরেলের “ফার্স্ট মাইল” ও “লাস্ট মাইল” সংযোগ বা যাতায়াত সহজ করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত এই লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং বাস্তবে যাত্রীরা কতটা উন্নত সেবা পান।
RUAP TV পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো আপডেট বা ঘোষণা আসামাত্রই আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব।
(সূত্র: ডিএমটিসিএলের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি)