রুয়াপে পথকুকুর ও পথবিড়াল নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, বিশেষ করে স্কেটিং গ্রাউন্ড ও এর আশপাশের কিছু এলাকায় দলবদ্ধ কুকুর মাঝেমধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণ করে। একা চলাফেরাকারী নারী, শিশু কিংবা রাতে বের হওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে ভয় কাজ করে, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি এই আচরণের পেছনের কারণটি বোঝাও জরুরি। প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞদের মতে, পথকুকুর সাধারণত নিজেদের এলাকা রক্ষা, বাচ্চাদের নিরাপত্তা, ক্ষুধা, ভয় কিংবা অতীতে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকেও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
রুয়াপে পথকুকুরের আতঙ্ক
সমস্যাটি শুধু আতঙ্কের নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতারও। একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর হাঁটতে বের হলে বা সাইকেল নিয়ে গেলে দলবদ্ধ কুকুর তাড়া করে আসে, আর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের একা খেলার মাঠে পাঠাতে দ্বিধায় পড়েন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলো নেই বা নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি কম, সেখানে এই ভয় আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অভিযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কোথায় জানাতে হবে বা কার দায়িত্ব—এই নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে, ফলে সমস্যাটি সমাধানের বদলে বছরের পর বছর অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে।
প্রাণীদেরও একটি গল্প আছে !
কিন্তু কখনো কি আমরা তাদের দিকটাও ভেবে দেখি? এই প্রাণীগুলোর কোনো স্থায়ী আশ্রয় নেই, নেই নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা। প্রচণ্ড রোদ, টানা বৃষ্টি, শীত কিংবা ঝড় সবকিছুই তাদের খোলা আকাশের নিচে সহ্য করতে হয়। প্রতিদিন খাবারের খোঁজে রাস্তায় ঘুরতে গিয়ে তারা গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়, অসুস্থ হয়, আবার অনেক সময় নীরবেই মারা যায়। সম্প্রতি রুয়াপেই একটি পথকুকুর গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছে। অন্যদিকে, ভবনে আশ্রয় নেওয়া অনেক পথবিড়াল দুর্ঘটনাবশত উঁচু থেকে পড়ে প্রাণ হারায়। এসব ঘটনা খুব কমই আমাদের আলোচনায় আসে।
শুধু খাবার দিলেই কি সমাধান হয়?
রুয়াপে এমন অনেক প্রাণীপ্রেমী আছেন, যারা নিজেদের উপার্জনের টাকা খরচ করে নিয়মিত পথকুকুর ও পথবিড়ালকে খাবার দেন। তাদের এই মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে প্রশ্ন থেকে যায় শুধু খাবার দিলেই কি সমস্যার সমাধান হয়? এলাকার পথকুকুরগুলোকে কি রেবিস (জলাতঙ্ক) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে? তাদের জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে কি? কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, রেবিস ভ্যাকসিন, চিকিৎসা এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা ছাড়া একদিকে যেমন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন, অন্যদিকে প্রাণীদের কষ্টও কমানো সম্ভব নয়।
সহাবস্থানের পথ ..
আমাদের প্রশ্নটা তাই হওয়া উচিত কীভাবে মানুষ ও পথপ্রাণী একই এলাকায় নিরাপদে সহাবস্থান করতে পারে? সমাধান হয়তো কোনো এক পক্ষকে সরিয়ে দেওয়ায় নয়, বরং সচেতনতা, রেবিস ভ্যাকসিন, জন্মনিয়ন্ত্রণ, দায়িত্বশীল প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক সহমর্মিতায়। আর চাইলে আমরা আজ থেকেই একটি ছোট কাজ শুরু করতে পারি গরমের দিনে জানালার বাইরে বা নিরাপদ কোনো স্থানে এক পাত্র পানি কিংবা কিছু পাখির খাবার রেখে দেওয়া। এতে হয়তো পৃথিবী বদলে যাবে না, কিন্তু কোনো তৃষ্ণার্ত পাখি বা ক্ষুধার্ত প্রাণীর জন্য সেটাই হতে পারে বেঁচে থাকার আরেকটি দিন।

1 comment
rajuk যে বিধি মালা দিয়েছে, সেখানে pet রাখার সুযোগ নাই I তবে গাছ ও পানি যেখানেই আছে I বিভিন্ন প্রাণী থাকবে l কারন প্রতিবেশ জীব/অনুকূলে I
আমাদেরকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভাবার সুযোগ আছে I পরিবেশ প্রতিবেশ আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে I জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্যে l