Home Newsদিয়াবাড়িতে কোরবানির পশুর হাট-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ত্বরিত পদক্ষেপ

দিয়াবাড়িতে কোরবানির পশুর হাট-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ত্বরিত পদক্ষেপ

by The Press Room
0 comments

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় এক বিশাল পশুর হাটের আয়োজন করা হয়। তবে এবারের হাটের পরিধি ও জনগণের উপচে পড়া ভিড় কেবল নির্ধারিত মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সম্প্রসারিত হয়েছিল নবনির্মিত স্বপ্নের মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত। বিপুল সংখ্যক পশুর সমাগম এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের অসচেতনতার কারণে সাময়িকভাবে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের অংশসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা মারাত্মকভাবে নোংরা ও দূষিত হয়ে পড়ে। একই সাথে হাটের অব্যবস্থাপনায় ওই অঞ্চলের বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন সবুজ গাছপালা ও সড়ক বিভাজকের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উৎসবের আনন্দ শেষ হতেই এই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত মাঠে নামে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটির বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মীবাহিনী অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে পুরো এলাকা থেকে শত শত টন পশুর বর্জ্য, গোবর ও আবর্জনা অপসারণ করে। শুধু ময়লা পরিষ্কার করাই নয়, বরং বর্জ্যের দুর্গন্ধ দূর করতে পুরো এলাকায় ছিটানো হয় ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক। এর পাশাপাশি, হাটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে ডিএনসিসির পরিবেশ উন্নয়ন শাখা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে মেট্রোরেল সংলগ্ন অধিকাংশ ফাঁকা স্থান ও সড়ক বিভাজকে নতুন চারাগাছ রোপণ করে এলাকাটিকে পুনরায় নান্দনিক করে তোলা হয়েছে।

যাত্রী ও স্থানীয়দের স্বস্তি

মেট্রোরেল স্টেশনের মতো একটি আধুনিক ও সংবেদনশীল কেপিআই (KPI) কাঠামোর নিচে এভাবে পশুর হাট বসানো এবং পরিবেশ নোংরা করা নিয়ে সচেতন নাগরিকদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে হাট শেষ হওয়ার পর ডিএনসিসির এমন অভাবনীয় তৎপরতা ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলাকাটি আগের রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিয়মিত যাতায়াতকারী মেট্রোরেলের যাত্রীরা। তারা সিটি কর্পোরেশনের এই তাৎক্ষণিক ও ইতিবাচক ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি


ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় এই আধুনিক সম্পদের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কোনো অবস্থাতেই নির্দেশনা অমান্য করে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বা এর আশপাশে পশুর হাট সম্প্রসারণ কিংবা পশু কেনাবেচা করতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

“পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নগরীর পরিবেশ সংরক্ষণ করার মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটিকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন এবং প্রকৃত অর্থেই সুস্থ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে আমাদের এই ধরনের প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
— শফিকুল ইসলাম খান, প্রশাসক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন

You may also like

Leave a Comment