Home Newsউত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টে ধারাবাহিক সাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার: ৪টি সাইকেল উদ্ধার

উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টে ধারাবাহিক সাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার: ৪টি সাইকেল উদ্ধার

by The Press Room
0 comments

স্থানীয় মানুষ ও তুরাগ থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় চোর ও চোরাইমাল ক্রেতাসহ পুরো সিন্ডিকেট সনাক্ত

রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট (রুয়াপ) এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি সুসংগঠিত বাইসাইকেল চোর চক্রের পর্দা ফাঁস করেছে পুলিশ। রুয়াপ টিভির অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তুরাগ থানা পুলিশ গত ২ জুন (২০২৬) এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চক্রের ২ জন মূল চোর এবং চোরাইমাল কেনাবেচায় জড়িত ২ জন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ মোট ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে সম্প্রতি চুরি হওয়া একটি দামি ব্র্যান্ডের নতুন বাইসাইকেলসহ মোট ৩টি চুরি হওয়া সাইকেল উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ও রুয়াপ টিভির অনুসন্ধান

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৯ মে রুয়াপ-এর ১৮ নম্বর সেক্টরের ‘তুরাগ-এ’ ভবনে প্রথম একটি সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির পর রুয়াপ টিভির প্রতিনিধি দল সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। ফুটেজ ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই চোর ধারাবাহিকভাবে রুয়াপ-এর বিভিন্ন ভবনে চুরির মিশন চালিয়ে আসছিল। তুরাগ ভবনের পর চোরটি একে একে ‘নীলাঞ্জনা’, ‘মধুমতি’, ‘ইছামতি’ এবং ‘কপোতাক্ষ’ ভবনেও চুরির ঘটনা ঘটায়। এর মধ্যে ‘ইছামতি’ ভবনের বাসিন্দা লাবিবের সাইকেল চুরির ঘটনাতেও এই একই ব্যক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৭:২০ থেকে ০৭:২৭ ঘটিকার মধ্যে মাত্র ৭ মিনিটের ব্যবধানে রুয়াপ মধুমতি ভবনের ৬/ডি ফ্ল্যাটের ১২ তলার সামনে থেকে একটি জার্সি পরা ছেলে নতুন ‘MUSTANG ALPHA’ মডেলের একটি বাইসাইকেল চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনাটি প্রজেক্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতিকে সামনে নিয়ে আসে।

সর্বশেষ চুরির বিবরণ (কুশিয়ারা ভবন):
গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ  বিকেল  ৫ টার  পরে রুয়াপ কুশিয়ারা  ভবন থেকে বাজারসহ  বাইসাইকেল চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনাটি প্রজেক্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ঘাটতিকে সামনে নিয়ে আসে।

যেভাবে ধরা পড়লো চোর চক্রের সদস্য

রুয়াপ টিভির প্রতিনিধিরা সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজগুলো প্রজেক্টের প্রতিটি ভবনের কর্তৃপক্ষ ও নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের নিকট সরবরাহ করেন। এর ফলে চোরের অবয়ব ও তার চুরির কৌশল সবার নিকট পরিষ্কার হয়ে যায়। এই সতর্কতার ধারাবাহিকতায়, গত ২ জুন চোরটি পূর্বে চুরি করা একটি সাইকেল নিয়ে পুনরায় রুয়াপ মার্কেট এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় সেখানে কুশিয়ারা বিল্ডিং এর মালি ফুটেজ এ দেখা চোরটিকে চিনে ফেলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আটক করেন।

জিজ্ঞাসাবাদ ও পুলিশের সফল উদ্ধার অভিযান

আটককৃত চোরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সে জানায়, রুয়াপের বিভিন্ন ভবন থেকে চুরি করা সাইকেল ও অন্যান্য মালামাল ‘রবিউল’ নামক এক ব্যক্তির বাসায় গোপনে জমা রাখা হতো। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে সেসব সাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা করে খুলে মিরপুর-১৪ এলাকার ইব্রাহিমপুরের একটি সুনির্দিষ্ট দোকানে বিক্রি করা হতো।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও রুয়াপ টিভির প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে তুরাগ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে তুরাগ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযানে নামে। পুলিশ রবিউলের আস্তানা এবং মিরপুরের ইব্রাহিমপুরের ওই দোকানে চিরুনি অভিযান চালিয়ে ২ জন চোর এবং চোরাইমাল কেনাবেচায় জড়িত সহ মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করে। এ সময় চুরি হওয়া নতুন ‘MUSTANG ALPHA’ সাইকেলসহ মোট ৩ টি চোরাই সাইকেল ও বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়।

রুয়াপ কমিটির নিকট জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি

একের পর এক বহুতল ভবনে ঢুকে দিনের আলোতে এবং সন্ধ্যায় যেভাবে চুরির ঘটনা ঘটছিল, তা রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। চোর চক্র ধরা পড়ার পর ভুক্তভোগী সাধারণ বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রুয়াপ কেন্দ্রীয় কল্যাণ কমিটির নিকট তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছেন এত বড় প্রজেক্টে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী এবং সিসিটিভি থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার এই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে এবং কমিটি কেন নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না?

আবাসিক বাসিন্দারা অবিলম্বে পুরো রুয়াপ এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, প্রতিটি ভবনের গেটে কঠোর তল্লাশি এবং রাতের বেলায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় চুরির নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment