বাংলাদেশের মানুষের সাথে ফুটবলের সম্পর্ক আবেগের, ভালোবাসার এবং উন্মাদনার। প্রতি চার বছর পর পর যখন ফিফা বিশ্বকাপ আসে, তখন সারা দেশ যেন ফুটবলের এক মহোৎসবে মেতে ওঠে। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায় ছেয়ে যায় শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে বহুতল আবাসিক ভবন সর্বত্র ফুটবলের রং।
বাংলাদেশ নিজে বিশ্বকাপে না খেলেও এ দেশের মানুষের ফুটবলপ্রীতি বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় কম নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে বেশি। রাত জেগে ম্যাচ দেখা, পাড়ার মোড়ে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করা, প্রিয় দলের জয়ে উল্লাস আর হারে বেদনা এ দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপ যেন এক জাতীয় উৎসব।
রুয়াপের মতো আবাসিক প্রজেক্টগুলোতেও এই উন্মাদনার ঢেউ লাগে সমানতালে। আজ থেকে শুরু হওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬ উপলক্ষে এক বিশেষ আয়োজন করেছে প্রজেক্টের অন্যতম সামাজিক সংগঠন ব্রাদার্স ইউনাইটেড ক্লাব (বিইউসি)। রুয়াপের স্কেটিং গ্রাউন্ডে বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে প্রজেক্টের বাসিন্দারা ব্রাদার্স ইউনাইটেড ক্লাবের এই উদ্যোগ সেই ফুটবলপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যেখানে সমাজের সব বয়সী মানুষ এক ছাদের নিচে একত্রিত হয়ে ফুটবলের আনন্দ ভাগ করে নেন।

এই আয়োজনকে সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ব্রাদার্স ইউনাইটেড ক্লাব তুরাগ থানা এবং মসজিদ কমিটি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে মসজিদ কমিটি রুয়াপের অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় কমিটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ম্যাচ উপভোগ নিশ্চিত করতে স্কেটিং গ্রাউন্ড ও তার আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এটি প্রথমবারের মতো নয়। গত বিশ্বকাপ মৌসুমেও ব্রাদার্স ইউনাইটেড ক্লাব রুয়াপের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সম্প্রচারের আয়োজন করেছিল, যা প্রজেক্টের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একত্রে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারেন।